ওমানে তিন মাসে ইসলামে দীক্ষিত ১৫৮

0
25

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত ৩ মাসে ওমানে বসবারত বিভিন্ন দেশের অন্তত ১৫৮ জন লোক ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয়।

দেশটির ওয়াক্ফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই তিন মাসে ১৫৮ জন ব্যক্তি ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছেন।

ধর্মান্তরিত এসব ব্যক্তিরা উগান্ডা, ফিলিপাইন, শ্রীলংকা এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক। ধর্মান্তরিতদের মধ্য বেশিরভাগই নারী বলে তিনি জানান।

তিনি আরো জানান, সম্প্রতি শেষ হওয়া রমজানে ‘ইসলামিক প্রারম্ভিক’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মোট ১৫ জন লোক ইসলাম গ্রহণ করেন।

‘টাইমস অফ ওমান’ ইসলামে ধর্মান্তরিত তিনজন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা সদ্য গত হওয়া রমজান মাসকে উপলক্ষ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ওমানে বসবাসরত অনেক ধর্মান্তরিত মুসলমানরা ইসলামের মাধ্যমে তাদের উদ্বেগ ও কষ্টের উত্তর খুঁজে পেয়ে থাকেন।

ফিলিপিন্সের নারী জুবেনি আল্টো মাত্র দুই মাস আগে ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। তার এই সিদ্ধান্ত তার জন্য একটি সঠিক পদক্ষেপ ছিল বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘আমি আড়াই বছর আগে ফিলিপাইন থেকে ওমানে এসেছি। দুই মাস আগে আমি ইসলাম সম্পর্কে ভালভাবে জানা ও পড়ার সিদ্ধান্ত নেই, কারণ আমার অনেক সমস্যা ছিল; যা নিয়ে আমি অনেক কষ্ট পাচ্ছিলাম।’

‘আমি অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছি যে ইসলাম আমাকে অনেক নতুন অনুভূতি দিয়েছে। আমি যা আবিষ্কার করেছি তা আমাকে আলোকিত করেছে এবং আমি এতে অনেক খুশি। পবিত্র কোরআন পড়ার পর এটি আমাকে ওঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে এবং আমি আমার হৃদয় দিয়ে অনুভব করতাম যে আমি আল্লাহর উপাসনায় বিশ্বাস করি।’

ওমানে তার মুসলিম বন্ধুরা তাকে ইসলামের বিভিন্ন বই পড়াশোনা করতে ও ইসলামের উৎস সম্পর্কে জানতে সাহায্য করেন।

আল্টো বলেন, ‘আমি অবশেষে আমার বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করি কিভাবে আমি ইসলামে ধর্মান্তরিত হবে এবং কিন্তু তারা এ সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল না। অবশেষে আমি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রারম্ভিক ইভেন্টের সন্ধান পাই। আমি তাদের অনলাইনে আবেদন ফ্রম পূরণ করি এবং নির্দিষ্ট দিনে হাজির হয়ে ধর্মান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি।’

‘ধর্মান্তরের পর আমার সমস্যাগুলোকে এখন আর ততটা ওজন বলে মনে হয় না। এটি একটি আশ্চর্যজনক অনুভূতি। আমাকে এখন খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না। আমি কোরআন পড়তে শুরু করেছি এবং আমি দিনে পাঁচবার নামাজ আদায় করছি এবং আমি আমার নিজেকে সম্পূর্ণ মানুষ বলে অনুভব করছি।’

ফিলিপাইন থেকে আগত আরেকজন ওমান প্রবাসী নারী ভেনেসা বনসিকো। তিনি ওমানে তার পৃষ্ঠপোষক পরিবারের মাধ্যমে ইসলামকে দেখতে পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘নয় মাস আগে আমি প্রথমবারের মতো ওমানের একটি বাসা-বাড়িতে কাজ করার জন্য আসি এবং আমি লক্ষ্য করলাম পরিবারটির একে অপরের সঙ্গে খুব ভাল সম্পর্ক রয়েছে। তারা খুব ঘনিষ্ঠ ছিল এবং তাদের মধ্য চমৎকার মূল্যবোধ ছিল। আমি তাদের সঙ্গে ইসলাম সম্পর্কে কথা বলতে শুরু করি এবং তারা আমাকে এ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে সাহায্য করে। কোথায় গিয়ে আমি আরো ভালভাবে ইসলাম সম্পর্কে জানতে ও শিখতে পারব তারা আমাকে তার সন্ধান দেন।’

‘আমি প্রারম্ভিক ইভেন্টগুলোতে উপস্থিত হয়েছি এবং ইসলাম সম্পর্কে অন্যান্য ফিলিপিনো বোনদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করি এবং এ বিষয়ে আমাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে গ্র্যান্ড মসজিদে কর্মরত একজন ফিলিপিনো বোন। আমি অন্য বোনদের মতো ইসলামে যোগদান করার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু কেউ আমাকে এ বিষয়ে বাধ্য করেনি কিংবা আমাকে প্ররোচিত করে নি। এটা ছিল আমার নিজের সিদ্ধান্ত। আমি সত্যিই খুব খুশি এবং ইসলাম আমাকে যা কিছু দিয়েছে তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

অন্যদিকে, রুথ ই ক্রুজ ফিলিপাইনে অনেক বছর ধরে বসবাস করা একজন মুসলমান যুবককে বিয়ে করার পর ইসলামে যোগদান করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ২৭ বছর বয়সে একজন মুসলিম ফিলিপিনোকে বিয়ে করি এবং আমাদের সংসারে দুইজন কন্যাও রয়েছে। আমি ইতোমধ্যেই ইসলামের সঙ্গে পরিচিত ছিলাম। কিন্তু যখন আমি ওমানে আসি, তখন আমি আমার পৃষ্ঠপোষক পরিবারকে অনুরোধ করলাম- কিভাবে মুসলিম হতে হবে সে সম্পর্কে আমাকে আরো বেশি শেখাতে সহায়তা করতে। কিভাবে প্রার্থণা করতে হয় এবং অন্য নির্দেশাবলী কিভাবে অনুসরণ করব তা আমি তাদের কাছ থেকে শিখতে পারি এবং তারপর অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘অনেক বছর পরে আমি আমার ইসলামি পরিবারের সঙ্গে যোগ দিতে পেরে অনেক খুশি এবং আমি মনে করি, ওমানে এসে ইসলাম সম্পর্কে আমি অনেক শিখেছি।’

সূত্র: টাইমস অফ ওমান

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here