পাস ও জিপিএ ৫ দুটোই কমেছে

0
19

মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে মাধ্যমিকের মতো উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষাতেও এবার পাসের হার কমেছে। ১০ শিক্ষাবোর্ডে এবার পাস করেছে ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন শিক্ষার্থী।

গত বছর এই পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। সে হিসাবে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার কমেছে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ বা জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২০ হাজার ৩০৭ জন।

দেশের দশটি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছর অনুষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার এ ফল গতকাল রবিবার সারাদেশে একযোগে প্রকাশ করা হয়।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সার্বিক পাসের হার কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড। এ বোর্ডে এবার পাসের হার ৫০ শতাংশেরও কম।

১০টি শিক্ষা বোর্ডে গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফল প্রকাশের ১৭তম বছরে এবারও সব বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পাসের হার কমার পাশাপাশি গতবছরের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ কমেছে।

গতকাল দুপুর ১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এর আগে সকাল ১০টায় গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসমূহের ফল হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইনসহ শিক্ষা বোর্ডসমূহের চেয়ারম্যানরা।

মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে পাসের হার কমেছে বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ কারণে তিনি বিস্মিতও হননি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন।

এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭০ জন। এরমধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ এক হাজার ৭১১ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৪ লাখ ২২ হাজার ৩৯০ ও ছাত্রী ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩২১ জন।

এর মধ্যে ৮টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে অংশ নেয় ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৯৩৮ জন। পাস করেছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪২ জন। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৪২ জন। গতবারের চেয়ে জিপিএ-৫ কমেছে ১৫ হাজার ৭০৮ জন।

শিক্ষার্থীদের উল্লাস: গতকাল দুপুরে কলেজগুলোর পাশাপাশি ওয়েবসাইটেও ফল প্রকাশ করা হয়। এছাড়া মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমেও শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফল জানতে পারে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভাল ফল অর্জন করা কলেজগুলোতে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। অভিভাবক, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। বাদ্য বাজিয়ে, হৈ-হুল্লোড় করে হাতে হাত রেখে নেচে-গেয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা। মিষ্টির দোকানগুলোতে বেচা-কেনার ধুম পড়ে যায়।

গতকাল একই সঙ্গে ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসির পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা), ডিপ্লোমা ইন কমার্স এবং এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলও প্রকাশিত হয়েছে।

দশ শিক্ষা বোর্ডের চিত্র

ঢাকা বোর্ড: পাসের হার ৬৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এই বোর্ডে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩৮ জন। পাস করে ২ লাখ ৩২ হাজার ৭৪১ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ৮ জন ছাত্র এবং ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৩ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ হাজার ৯৩০ জন।

রাজশাহী বোর্ড: পাসের হার ৭১ দশমিক ৩০ শতাংশ। এই বোর্ডে থেকে এবার ১ লাখ ২১ হাজার ৮৩৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৮৬ হাজার ৮৭২ জন। এর মধ্যে ৪৫ হাজার ২৪০ জন ছাত্র এবং ৪১ হাজার ৬৩২ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ২৯৪ জন।

কুমিল্লা বোর্ড: পাসের হার ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। এই বোর্ডে এবার ১ লাখ ৩৭২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাস করে ৪৯ হাজার ৭০৪ জন। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৭৯২ জন ছাত্র এবং ২৫ হাজার ৯১২জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭৮ জন।

যশোর বোর্ড: পাসের হার ৭০ দশমিক ০২ শতাংশ। এই বোর্ডে এবার ৯৫ হাজার ৬৯২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। ৬৭ হাজার ২ জন পাস করে। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ৮০৮ জন ছাত্র এবং ৩৩ হাজার ১৯৪ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৪৪৭ জন।

চট্টগ্রাম বোর্ড : পাসের হার ৬১ দশমিক ০৯ শতাংশ। এই বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৮২ হাজার ৪১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ হাজার ৩৪৭ জন পাস করে। এর মধ্যে ২৪ হাজার ৭১৬ জন ছাত্র এবং ২৫ হাজার ৬৩১ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩৯১ জন।

বরিশাল বোর্ড: পাসের হার ৭০ দশমিক ২৮ শতাংশ। এই বোর্ডে এবার ৬০ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৪২ হাজার ৫০৭ জন। এর মধ্যে ২১ হাজার ১১১ জন ছাত্র এবং ২১ হাজার ৩৯৬ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮১৫ জন।

সিলেট বোর্ড: পাসের হার ৭২ শতাংশ। এই বোর্ডে এবার ৬৫ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাস করে ৪৬ হাজার ৭৩৭ জন। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ হাজার ৩০ জন ছাত্র এবং ২৫ হাজার ৭৬৭ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০০ জন।

দিনাজপুর বোর্ড: পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এই বোর্ডে এবার ১ লাখ ৫ হাজার ৪০০ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাস করে ৬৮ হাজার ৯৭২ জন। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ হাজার ২ জন ছাত্র এবং ৩৩ হাজার ৯৭০ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯৮৭ জন।

মাদ্রাসা বোর্ড: পাসের হার ৭৭ দশমিক ০২ শতাংশ। এ বোর্ডের অধীনে এবার ৯৬ হাজার ৮০২ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাস করে ৭৪ হাজার ৫৬১ জন। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৩ হাজার ৬১২ জন ছাত্র এবং ৩০ হাজার ৯৪৯ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮১৫ জন।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: পাসের হার ৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ বোর্ডের অধীনে এবার ৯৭ হাজার ১৪ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাস করে ৭৮ হাজার ৯০৪ জন। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৪ হাজার ৫৮০ জন ছাত্র এবং ২৪ হাজার ৩২৪ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৬৬৯ জন।

পাসের হার শতাংশে

বোর্ড ২০১৭ ২০১৬

ঢাকা ৬৯.৭৪ ৭৩.৫৩

রাজশাহী ৭১.৩০ ৭৫.৪০

কুমিল্লা ৪৯.৫২ ৬৪.৪৯

যশোর ৭০.০২ ৮৩.৪২

চট্টগ্রাম ৬১.০৯ ৬৪.৬০

বরিশাল ৭০.২৮ ৭০.৭৩

সিলেট ৭২.০০ ৬৮.৫৯

দিনাজপুর ৬৫.৪৪ ৭০.৬৪

মাদ্রাসা বোর্ড ৭৭.০২ ৮৮.১৯

কারিগরি বোর্ড ৮১.৩৩ ৮৪.৫৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here