বঙ্গবন্ধুর খুনী নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠান

0
23

 

মৃত্যুদন্ড-প্রাপ্ত  বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী নূর চৌধুরীকে ফেরত দিতে কানাডা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার বিনোয়িট পিয়েরো লারামি বিদায়ী সাক্ষাতে এলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মাধ্যমে কানাডা সরকারের কাছে এ আহ্বান জানান।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, জাতির পিতা হত্যাকারীদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কানাডার হাইকমিশনারকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর এক খুনী নূর চৌধুরী কানাডায় আছে। তাকে ফেরত পাঠান। জবাবে বিদায়ী হাইকমিশনার লারামি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আপনার অনুরোধ পৌঁছে দেব।

সাক্ষাতকালে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি উঠে আসে। আগামী সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে হাইকমিশনারকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চাই। স্বচ্ছ ভোট বাক্স চালুসহ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতকরণে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উদ্যোগ ও অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর ২১ বছর এ দেশে গণতন্ত্র ছিল না। আমরাই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছি। গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ না করা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা কোয়ালিশন সরকার গঠন করার কথা বলেছি। বিএনপিকে বলেছিলাম যে মন্ত্রণালয় তোমরা চাও, দেব, তবু তোমরা নির্বাচনে আস।

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতি গঠনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। এই স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু ২৪ বছর সংগ্রাম করেছিলেন। স্বাধীনতার পরে যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতি গঠনে বঙ্গবন্ধু আত্মনিয়োগ করেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য তিনি অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া। আমরা তাঁর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে কাজ করছি। আমরা ১৬ কোটি মানুষের উন্নয়নে কাজ করছি। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বৈঠকে সন্ত্রাসবাদের বিষয় উঠলে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গী নির্মূলে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পেয়ে এজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কানাডার হাইকমিশনার বিনোয়িট পিয়েরো লারামি। বাংলা ভাষা শেখার বিষয়টি জানিয়ে লারামি বলেন, মায়ের ভাষা সংরক্ষণ ও রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রক্তের বিনিময়ে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ২১ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন কানাডার বিদায়ী এই হাইকমিশনার। প্রথম দিকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্যে কানাডা একটি এ বিষয়টি উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত আরও জোরদার হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেক্টরে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন তিনি। হাইকমিশনার বলেন, উন্নয়নের কাজে বাংলাদেশ সফল। কানাডা উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে এবং আরও জোরদার করবে বলে জানান হাইকমিশনার লারামি। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here