সন্দ্বীপবাসীর খোলা চিঠি

0
63

সন্মানিত প্রিয় অভিভাবক,
জ্বনাব মাহফুজুর রহমান মিতা প্রায় সাড়ে চার লাখ সন্দ্বীপবাসীর পক্ষ থেকে সালাম ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।
পরবার্তা, আপনার নির্বাচনী এলাকার একজন স্থায়ী বাসিন্দা এবং সাধারণ সচেতন নাগরিক হিসাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনার দৃষ্টিতে আনতে চাই,(যা হয়ত আপনি ভাল অবগত আছেন)।
খোলামেলা কথা বলা তারুণ্যের ধর্ম তাই খোলামেলা ভাবেই বলবো,
আপনার সন্দ্বীপ প্রেম এবং কাজের প্রতি কমিটমেন্ট অতি কাছ থেকে কিছুটা দেখার এবং বুঝার সুযোগ হয়েছিল।
তা থেকে যা বুঝলাম, আপনার সারল্যতাকে অনেকেই পুঁজি করে আজ অবৈধ পথে বিত্তশালী! বিত্তের নেশা আর জনসেবা এক নয় যা তারা বেমালুম ভুলেই আছে!
আপনি বিত্ত-প্রতিপত্তির জন্যে দ্বীপ জনপদ চষে বেড়ান, তা আপনার নিন্দুক বা শত্রুরা ও বলবেনা।
তবে, আপনার রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে, রাজনীতির নামে, ক্ষমতার মোহে ধরাকে সরা জ্ঞান করে ‘আঙুল ফুলে কলা গাছ’ যারা হচ্ছে, তাদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ পদের জনপ্রতিনিধি হিসাবে আপনার আরো সচেতনতা
এবং কঠোর মনোভাব বিনীত কামনা করছি।
‘রাজনীতি’কে যারা সেবার বদলে পেশা এবং ধান্দাবাজির হাতিয়ার হিসাবে নিয়ে সাধারণ মানুষকে অবহেলা লাঞ্চনা করছে, সে সকল লেবাসধারীদের ত্যাগ বা এড়িয়ে চলা রাজনীতির বাস্তব ময়দানে কঠিন হলেও তাদের ব্যাপারে চোখ-কান আরো ভালোভাবে খোলা রাখুন এবং তাদের প্রতিরোধ ও সংশোধনে এগিয়ে আসুন।
আপনার সকল শ্রম ও উন্নয়ন ভেস্তে যাবে,
যদি আগামী ভোটের আগে সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম নিরাপদ নৌ-রুট শতভাগ নিশ্চিত করতে না পারেন।
সকল উন্নয়নের মাপকাঠি হিসাবে ‘নিরাপদ নৌ-রুট’কেই কিন্তু সন্দ্বীপবাসী আগামীতে নির্ণয় করবে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম।
অতীতের সাংসদেরা যা পারেননি,
আপনি তা করে দেখাতে পারবেন সে বিশ্বাস আপামর সন্দ্বীপবাসীর অন্তরে এখনো আছে।
আশেপাশের স্বর্ণ লতাদের কথা না শুনে
নিরাপদ নৌ-রুটের দাবী আদায়ে আপনার সামনে যদি কোন প্রতিবন্ধকতা থেকে থাকে, তা প্রকাশ্যে ক্লিয়ার করুন এবং তা মোকাবেলায় কঠোর চিত্তে সন্দ্বীপের জনগনকে নিয়ে রাজপথে নামুন।
প্রয়োজনে নৌ-মন্ত্রনালয় অভিমুখে সন্দ্বীপ থেকে লং মার্চের ডাক দিন।
দল-মত নির্বিশেষে তরুণ প্রজন্ম আপনার পাশে থাকবে।
যুগ-যুগ ধরে জেলা পরিষদ, বি আই ডব্লিউ টি এ, ইজারাদার ‘ত্রিমুখী’ অম্ল মধুর লোলুপ প্রেম লীলার শিকারে পরিনত ও লাঞ্ছিত আপনার প্রিয় সহজ সরল সন্দ্বীপবাসী।
তাদের পাশে উদ্ধারকর্তা হিসাবে এ সময়ে আপনি ছাড়া আর কে আছে?
ঈদের ছুটি প্রিয়জনদের সাথে উপভোগ করতে প্রিয় জন্মস্থান সন্দ্বীপ এসে বৈরী আবহাওয়া এবং নিরাপদ নৌযানের অভাবে আটকা পড়েছে হাজার হাজার কর্মমূখী মানুষ! যা আপনি অবগত আছেন।
কেন এ সংকট?
কেন সাধারণ মানুষের এমন কষ্ট?
তা সবচেয়ে ভালো এবং ক্লিয়ারভাবে আপনি অবগত আছেন।
দয়াকরে চিহ্নিত মাফিয়া ও দুষ্টুদের প্রতি কঠোর হোন, ব্যবস্থা নিন।
বাংলাদেশ কোষ্ট গার্ড অথবা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপদ নৌযান ব্যবহার করে দ্বীপে আটকা পড়া মানুষদের তাদের কর্মস্থলে দ্রুত পৌঁছে দেয়া যায় কিনা দয়া করে ভেবে দেখুন। সম্ভব হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাই।
ঘাট ‘ইজারা প্রথা’ বাতিলের কথা এখন আমাদের অন্যভাবে ভাবতে হবে। কারন, এ প্রথা সন্দ্বীপবাসীর উপর জুলুম অবিচার এবং চরম মানবাধিকার লঙ্গনের একটি কালো প্রথা।
সদর ঘাটের মত সন্দ্বীপের ঘাটগুলো উন্মুক্ত করে দেয়া যায় কিনা সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিন। এতে অনেক সমস্যার সমাধান সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে ব্যক্তিগত উদ্যেগে দ্রুত সমাধান সম্ভব এবং সেবা প্রদানে প্রতিযোগিতা হবে, সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে এতে কোন সন্দেহ নাই।
২এপ্রিল, গুপ্তছড়া ঘাটের নৌ-ট্র‍্যাজেডি সন্দ্বীপবাসীর অন্তরে ‘দুঃখের কৃষ্ণ গহ্বর’ হয়ে থাকবে অনেককাল। কাদের লোভ, অবহেলায় এবং কাদের সংশ্লিষ্টতায় এ ট্র‍্যাজেডি ঘটেছে তা আজ সবার জানা কিন্তু মানুষ একদিন তা ভুলেও যাবে হয়ত। অনাকংখিত এ ঘটনাটি ঘটেছে, আপনার মেয়াদ কালেই তাই ইতিহাসের এ কালো অধ্যায়ে আপনার নাম কি ঘুরেফিরে আসবে না?!
সচেতন মহল জানে, বিচ্ছিন্ন অঞ্চলের সাংসদ হিসাবে আপনার সীমাবদ্ধতার পরিধি। সীমাবদ্ধতার হিসাব-নিকাশ সবসময় সবক্ষেত্রে যে চলেনা, তা আপনি ভালো জানেন। এ ট্র‍্যাজেডিতে নিহতদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে ‘ছায়া বৃক্ষ’ হয়ে দাঁড়ান। তাদের সাহায্যার্থে, একটা রিচ ফান্ড কিভাবে সবাইমিলে রাইজ করা যায় সে ব্যাপারে, আপনার অধিনস্থদের নির্দেশ দিন। আগামীর ভোট ও ভাতের রাজনীতিতে ‘২এপ্রিল ট্র‍্যাজেডি’ মেজর ইস্যু হয়ে সামনে আসবে তা বিনয়ের সাথে আগেই স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।
আপনার সকল রাজনৈতিক পরিচয়ের উদ্ধে আপনি দ্বীপ বন্ধুর সন্তান।
সে পরিচয়েই কিন্তু আপনি আজকের সাংসদ। যদি তা ভুলে যান বা আপনাকে কেউ ভুলিয়ে রাখে তা আগামীর জন্যে শুভ বার্তা না ও আনতে পারে সময় এখন আপন ভুবনে সজাগ হওয়ার।
আমাদের জাহাইজ্জার চর, ঠ্যাঙার চর ইস্যুগুলো নিয়ে আলোকপাত আজকে আর নাইবা করলাম।
দ্বীপ বন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী হিসাবে সাধারণ মানুষের ভালবাসা, সন্মান এবং দোয়া নিয়ে এ জনপদে বেঁচে থাকুন হাজার বছর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here