সাকিব-রিয়াদ নৈপুণ্যে ব্যাটিংয়ে টাইগারদের জয়

0
21

স্পোর্টস ডেস্ক: টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ডকে ২৬৫ রানের বেঁধে ফেলেন বোলাররা। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে তখন ২০০৫ সালের সেই স্মৃতিই ফিরে আসার সম্ভাবনার উড়াউড়ি। আরেকটি কার্ডিফ রূপকথার স্বপ্নের জাল বোনা শুরু করেছিল বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষও!

২৬৬ রানের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পরেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচটা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আর মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে টাইগাররা শুধু ম্যাচেই ফিরেনি, ছিনিয়ে নিয়েছে এক অবিশ্বাস্য জয়। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে ৫ উইকেটের ব্যবধানে। আজকের খেলায় সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ দুইজনই সেঞ্চুরি করে।

শুক্রবার কার্ডিফে বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরে ম্যাচটি শুরু হয়। টস জিতে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন।

মোসাদ্দেক এবং তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে কিউইরা। টাইগারদের হয়ে প্রথম আঘাত হানেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথমবারের মতো সুযোগ পাওয়া তাসকিন আহমেদ।

লুক রনকি ১৬ রান করে তাসকিনের বলে মোস্তাফিজের হাতে ধরা পড়েন। শুরু থেকেই ভয়ংকর ছিলেন মার্টিন গাপটিল। তবে ব্যক্তিগত ৩৩ রানে রুবেল হোসেনের বলে লেগ বিফোরের শিকার হন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

এরপর কেন উইলিয়ামসন এবং রস টেইলর মিলে ৮৩ রানের জুটি গড়ে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দেন। ব্যক্তিগত ৫৭ রান করে রান আউটের শিকার হন উইলিয়ামসন। এরপর নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন তাসকিন। ভয়ংকর হয়ে ওঠা রস টেইলরকে মোস্তাফিজের ক্যাচে পরিণত করেন তাসকিন। টেইলর ৬৩ রান করেন।

এরপর বোলিং ক্যারিশমা দেখান মোসাদ্দেক। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই নেইল ব্রুম (৩৬) এবং কোরি এন্ডারসনকে (০) সাজঘরে ফেরত পাঠান মোসাদ্দেক।

এবার অলআউটের শংকা জাগে কিউই শিবিরের। রানের চাকা শ্লথ হয়ে আসে। নিজের তৃতীয় ওভারে আবারো জিমি নিশামকে (২৩) নিজের শিকারে পরিণত করেন মোসাদ্দেক। নিজের নবম ওভারে এসে অ্যাডাম মিলনেকে (৭) সরাসরি বোল্ড করেন মোস্তাফিজ।

এরপর ২৬৬ রানের লক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে ফিরলেন তামিম ইকবাল। টিম সাউদির বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার পর রিভিউ নিয়েছিলেন বাঁহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। তবে তাতে পাল্টায়নি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত।

এরপর পরপর দুই বলে চার হাঁকিয়ে ফিরে গেলেন সাব্বির রহমান। দলীয় ১০ রানের মাথায় নিজের দ্বিতীয় ওভারে তাকে বিদায় করেন টিম সাউদি।

পরে টিম সাউদির বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার। ১৩ বলে ৩ রান করে ফিরেন বাঁহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। অ্যাডাম মিলনেকে এক চার হাঁকানোর পরের বলেই ফিরে যান মুশফিকুর রহিম। ঘণ্টায় ১৪৬ কিলোমিটার গতির বলে উপড়ে যায় মিডল স্টাম্প।

ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তামিম ইকবাল। টিম সাউদির করা দ্বিতীয় বলেই লেগ বিফোরের শিকার হন আগের দুই ম্যাচে দারুণ খেলা এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

নিজের দ্বিতীয় ওভারেই সাব্বিরকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন সাউদি। সাব্বির ৮ রান করেন। নিজের তৃতীয় ওভারে এসে সৌম্য সরকারকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন সাউদি। সৌম্য ৩ রান করেন। দলীয় ৩৩ রানে সাজঘরে ফিরেন টাইগার দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। তার বিদায়ের পর চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মাশরাফি বিন মুর্তজা, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন।

নিউ জিল্যান্ড একাদশ: কেন উইলিয়ামসন, কোরি অ্যান্ডারসন, ট্রেন্ট বোল্ট, নিল ব্রুম, মার্টিন গাপটিল, অ্যাডাম মিল্ন, জিমি নিশাম, লুক রনকি, মিচেল স্যান্টনার, টিম সাউদি, রস টেইলর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here