৪ পয়েন্টে বেড়িবাঁধ না থাকায় রীতিমতে বয়ে চলছে জোয়ার-ভাটা

0
37

কক্সবাজারের দ্বীপ-কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুংয়ের ২২ ও আলী আকবর ডেইলের ৩ সহ ২৫ গ্রামে রীতিমতে চলছে সামুদ্রিক জোয়ার-ভাটা। ফলে ঠাই নেই কোথাও মাথাগুজাবার। পরিবেশ নেই রান্নাবান্না ও চলাচলের। যেদিকে থাকাই শুধু পানি আর পানি। এক গ্রাম থেকে অপর গ্রামের একমাত্র ‘পোলার ভেলাই’ যাতায়াত বাহন। লোকালয়ে নিরাপধ আশ্রয়ে নোঙ্গর করেছে বহু ফিশিংবোট। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ৪ পয়েন্টে বেড়িবাঁধ না থাকায় ‘ঘূর্ণিঝড় মোরার’ পর থেকে নুনা পানিতে সয়লাব থাকায় স্বাভাবিক ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত ওসব গ্রামের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের চরম দু:খ-দুর্দশার চিত্র। উত্তর ধুরুংয়ের কাইচারপাড়া থেকে ‘পশ্চিম চরধুরুংয়ের প্রায় ২কি.মি., আলী আকবর ডেইলের দক্ষিণ-পশ্চিম তাবালেরচরে ৩ থেকে ৪ চেইন, আনিচের ডেইলে ৪ থেকে ৫ চেইন ও বায়ু বিদ্যুত এলাকায় ৫ থেকে ৬ চেইন বেড়িবাঁধের ভয়াবহ ভাঙ্গন। অনতি বিলম্বে ওসব ভাঙ্গন এলাকা পুন: নির্মাণ না হলে বর্ষায় চাষাবাদতো হবেইনা চরম হুমকির মাঝে থাকবে গোটা দ্বীপের মানুষ। গেলো বছরের ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ পরবর্তী বেড়িবাঁধ সংস্কারে বরাদ্দকৃত ৫কোটি টাকার মাটিরকাজ যথাসময়ে ও ঠিকমতে বাস্তবায়ন হলে এ দূর্যোগের সৃষ্টি হতোনা বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আলী আকবর ডেইল ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা নুরুচ ছাফা, তরুণ আ.লীগ নেতা কাইমুল ইসলাম, উত্তর ধুরুং ইউপি চেয়ারম্যান আ.স.ম.শাহরিয়ার চৌধুরী, ইউপি মেম্বার সেলিম উল্লাহ, মেম্বার সামশুল আলম, মেম্বার মাহমুদুল করিম মনু, আ.লীগ নেতা জিয়াবুল করিম, নেছারুল ইসলাম, সলিম উল্লাহ বাবুল, ফয়েজুল ইসলাম বাবুল সহ আরো অনেকে। প্লাবিত গ্রামসমূহ হচ্ছে উত্তর ধুরুংয়ের পশ্চিম চরধুরুং, কাইছার পাড়া, ফরিজ্যারপাড়া, ওয়াইজারপাড়া, জমিরবাপের পাড়া, চুল্লারপাড়া, আজম উদ্দিন সিকদারপাড়া, মিয়ারাকাটা, কালারমার পাড়া, মসজিদপাড়া, পুড়ারপাড়া, আমিরাপাড়া, উত্তর নাথপাড়া, নয়াকাটা, চাইন্দারপাড়া, আইক্যারপাড়া, চাটিপাড়া, পূর্বচর ধুরুং, মনচুরআলী হাজীপাড়া, মনু সিকদারপাড়া, নজুবাপের পাড়া, ফয়জানি পাড়া, আলী আকবর ডেইলের ‘আনিচের ডেইল ও দক্ষিণ-পশ্চিম তাবালেরচর। বেড়িবাঁধ নির্মাণ-সংস্কারে চলতি অর্থ সনে বরাদ্দকৃত ৯২ কোটি টাকার কাজ আগামী শুস্ক মৌসুমে শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেন কুতুবদিয়া-মহেশখালীর সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক। উল্লেখিত এলাকার মানুষের দু:খ-দুর্দশার কথা নিশ্চিত করে বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবহিত করেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী। ৪০ কি.মি. বেড়িবাঁধের অধিকাংশ এলাকা বিলীন হওয়ায় ‘স্বল্প বরাদ্দ শুধু সাগর ও দুর্নীতিবাজদের পেঠের খোরাক না করে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে কুতুবদিয়া রক্ষার দাবী পৌণে দু’লাখ বাসিন্দার’। সার্বিক বিষয়ে জানতে বহু চেষ্টা করেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে পাওয়া যায়নি।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here